Sunday, June 21, 2026

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ আর নেই

আরও পড়ুন

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ হারুন অর রশীদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হারুন অর রশীদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। পাশপাশি তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন।

তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আরও পড়ুনঃ  চাকরিজীবীদের জন্য টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায়ও নিয়োজিত ছিলেন হারুন অর রশীদ। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নে।

রাষ্ট্র পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হারুন অর রশীদ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন প্রবীণ নেতা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য, একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী এবং দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে তিনি ওই আসনের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

আরও পড়ুনঃ  জনপ্রিয় লেডি বাইকারের মর্মান্তিক মৃত্যু

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে দলের যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে জেলার দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ, ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  মোজতবা খামেনি কি সত্যি বেঁচে আছেন, যে তথ্য দিলেন ট্রাম্প

পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবী ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালত অঙ্গনে আইন পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের কাছে একজন অভিভাবকতুল্য নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মরহুম অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদের জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ