ভাই দেশে কি হচ্ছে এসব? দিন-দুপুরে একটা অফিসে ঢুকে একজন ৬০-৭০ বয়সী ব্যবসায়ীকে স্পর্শকাতর স্থানে চেপে ধরে জোরপূর্বক তার চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া এমন ঘটনা কি কোনো সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায়?
বরিশালের সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের এমডি আব্দুল আজিজ হাওলাদারের সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী ঠিক এমনই একটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।
কাটপট্টি রোডের মোস্তাফিজ রহমান লিটু দলবল নিয়ে তার অফিসে প্রবেশ করেন। প্রথমে ভয়ভীতি দেখানো হয়, এরপর শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্পর্শকাতর স্থানে চাপ প্রয়োগ করে জোর করে দুটি চেক ও দুটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়।
ভাবতে পারেন, একজন মানুষকে কতটা অসহায় অবস্থার মধ্যে ফেললে এমন কাজ করা সম্ভব!
হয়তো অভিযুক্তরা ভেবেছিল, ঘটনাটি চার দেয়ালের মধ্যেই চাপা পড়ে থাকবে। কিন্তু পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর বরিশালজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং প্রশ্ন তুলছেন—আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও দিনের আলোয় একটি অফিসে ঢুকে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে?
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া চেক ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারও দাবি করেছেন।
যদি একজন মানুষ নিজের অফিসে বসেও নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কেউ যেন আইনের ঊর্ধ্বে নয় এই বার্তাই প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।
