Thursday, May 28, 2026

দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কুরবানি করলে কি ওয়াজিব আদায় হবে?

আরও পড়ুন

কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার এক মহান ইবাদত। বর্তমান সময়ে অনেক মুসলিম বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা বা ইসলামী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কুরবানি করে থাকেন, যেন দূরবর্তী দরিদ্র ও অসহায় মানুষও কুরবানির গোশত পেতে পারে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—নিজে উপস্থিত না থেকে কোনো সংস্থাকে দায়িত্ব দিলে কি ওয়াজিব কুরবানি আদায় হবে? ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এর সুস্পষ্ট উত্তর রয়েছে।

দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কুরবানি করলে হুকুম কী?

যদি কোনো নির্ভরযোগ্য দাতব্য সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কুরবানির উপযুক্ত পশু ক্রয় করে, নির্ধারিত সময়ে কুরবানি সম্পন্ন করে এবং সঠিকভাবে মাংস বিতরণ করে, তাহলে সেই সংস্থাকে দায়িত্ব দিলে ওয়াজিব কুরবানি আদায় হয়ে যাবে—ইনশাআল্লাহ।

অর্থাৎ কুরবানিদাতার নিজে উপস্থিত থাকা শর্ত নয়। কাউকে প্রতিনিধি (ওকিল) বানিয়ে কুরবানি করানো জায়েজ। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে নিজের পক্ষ থেকে কুরবানির দায়িত্ব দিতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ মিলবে নগদ টাকা, পাবেন যারা

তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— যে সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটি যেন আমানতদার, বিশ্বস্ত এবং শরিয়তসম্মতভাবে কুরবানি সম্পন্নকারী হয়।

কুরবানির মাংস নিজে খাওয়া কি জরুরি?

যদিও পুরো মাংস গরিবদের মাঝে বণ্টন করা বৈধ, তবুও কুরবানির গোশত থেকে নিজে খাওয়া, পরিবারকে খাওয়ানো এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের দেওয়া সুন্নত ও উত্তম আমল। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন—

وَ الۡبُدۡنَ جَعَلۡنٰهَا لَكُمۡ مِّنۡ شَعَآئِرِ اللّٰهِ لَكُمۡ فِیۡهَا خَیۡرٌ ٭ۖ فَاذۡكُرُوا اسۡمَ اللّٰهِ عَلَیۡهَا صَوَآفَّ ۚ فَاِذَا وَجَبَتۡ جُنُوۡبُهَا فَكُلُوۡا مِنۡهَا وَ اَطۡعِمُوا الۡقَانِعَ وَ الۡمُعۡتَرَّ ؕ كَذٰلِكَ سَخَّرۡنٰهَا لَكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُوۡنَ

‘আর কুরবানির উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন বানিয়েছি; তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে কল্যাণ। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান অবস্থায় সেগুলির উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর যখন সেগুলো কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে খাও। যে অভাবী, মানুষের কাছে হাত পাতে না এবং যে অভাবী চেয়ে বেড়ায়-তাদেরকে খেতে দাও। এভাবেই আমি ওগুলোকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ (সুরা হজ: আয়াত ৩৬)

আরও পড়ুনঃ  ওয়াক আউটের পর হাসনাতের ৩ শব্দের পোস্ট ভাইরাল

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কুরবানির গোশত শুধু দান করার জন্য নয়; বরং নিজে খাওয়া এবং অন্যকে খাওয়ানোর মধ্যেও রয়েছে ইবাদতের সৌন্দর্য ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।

 

 

কেন দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কুরবানি জনপ্রিয় হচ্ছে?

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দরিদ্র ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে অসংখ্য মুসলিম পরিবার আছে, যারা বছরের পর বছর কুরবানির গোশত খেতে পারে না। তাই অনেকেই দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কুরবানি করে সেইসব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। এটি একদিকে যেমন ওয়াজিব ইবাদত আদায়, অন্যদিকে তেমনি মানবিক সহমর্মিতারও অনন্য উদাহরণ।

আরও পড়ুনঃ  হাসিনা সরকার পতনের দিন কী ঘটেছিল বঙ্গভবনে, জানালেন রাষ্ট্রপতি

যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি

> সংস্থাটি বিশ্বস্ত ও শরিয়তসম্মত হতে হবে

> নির্ধারিত কুরবানির দিনেই পশু জবাই করতে হবে

> কুরবানির উপযুক্ত পশু হতে হবে

> মাংস সঠিকভাবে অসহায়দের মাঝে বিতরণ করতে হবে

> প্রতারণা বা লোক দেখানো উদ্দেশ্য থাকা যাবে না

ইসলাম সহজ ও বাস্তবসম্মত ধর্ম। তাই নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও বিশ্বস্ত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কুরবানি করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়। তবে কুরবানির মূল শিক্ষা যেন আমাদের হৃদয়ে জীবন্ত থাকে— আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ, আন্তরিকতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আল্লাহ তাআলা আমাদের কুরবানি কবুল করুন এবং এই ইবাদতের প্রকৃত চেতনা উপলব্ধি করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ