Saturday, March 28, 2026

ইরান এমনই বি*পদে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রকে, যা আগে কেউ পারেনি

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জেরে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনায় বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানের মোট ব্যয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব এখনো প্রকাশ করেনি Pentagon। তবে কংগ্রেসের বিভিন্ন সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুদ্ধের ব্যয় ইতোমধ্যে অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের রাজনীতিকদের মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, করদাতাদের বিপুল অর্থ সামরিক খাতে ব্যয় হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের হাউস মাইনরিটি লিডার Hakeem Jeffries প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কঠোর সমালোচনা করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে চাপে রয়েছে, তখন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।

আরও পড়ুনঃ  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন হাসনাত মোর্শেদ

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

এদিকে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণে হাউস বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট (Brendan Boyle) ইতোমধ্যে (Congressional) Budget Office-কে বিস্তারিত বিশ্লেষণের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, এই সংঘাত জ্বালানির দামসহ মার্কিন অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি চীন বা অন্য কোনো অঞ্চলে একই সময়ে উত্তেজনা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র তা মোকাবিলা করতে পারবে কি না—সেই সক্ষমতাও মূল্যায়নের কথা বলেছেন তিনি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান (Center for Strategic and International Studies)-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এর বড় অংশ ব্যয় হয়েছে সামরিক গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে। গবেষকদের মতে, এই অর্থের একটি অংশ আগেই বাজেটে বরাদ্দ ছিল, তবে বাকি অর্থের জন্য নতুন করে তহবিলের আবেদন করতে হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

অপারেশনাল দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উন্মুক্ত তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে ১২০টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক F-35 Lightning II এবং F-22 Raptor যুদ্ধবিমান।

এ ছাড়া দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং অসংখ্য কার্গো বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এসব বাহিনী পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও জনবল প্রয়োজন হচ্ছে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক ব্যয়ের পাশাপাশি বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার। ফলে এই ধরনের দামী অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারই প্রতিদিনের ব্যয়কে কয়েকশ কোটি ডলারে পৌঁছে দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  আবারও বেড়ে গেল তেলের দাম, বাজারে অস্থিরতা

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, আগামী দিনে ইরানে বোমা হামলার তীব্রতা এবং যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পেন্টাগন ইতোমধ্যে হারানো অস্ত্র ও সরঞ্জাম পুনরায় কেনার জন্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে, যা কংগ্রেসে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

তবে মুদ্রাস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন আইনপ্রণেতারা এত বড় অঙ্কের অর্থ অনুমোদন করবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

আপনার মতামত লিখুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ