ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে শোক ও উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এসেছে তার জীবনের শেষ মুহূর্তের একটি ছবি। তেহরান থেকে প্রকাশিত এই ছবিটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে তার হত্যাকাণ্ড ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’ এবং ‘আল মায়াদিন ইংলিশ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান থেকে প্রকাশিত এই ছবিটি খামেনির মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবিতে তাকে তেহরানে তার নিজ কার্যালয়ে অত্যন্ত নিবিষ্ট চিত্তে দাপ্তরিক কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে আয়াতুল্লাহ খামেনির বাসভবন ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, এক সময়ের সুরক্ষিত সেই প্রাসাদটি এখন কেবলই এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’ সে সময় জানিয়েছিল, খামেনি তার অফিসে অর্পিত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ জানিয়েছে, হামলার পর পরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। ওই হামলায় কেবল সর্বোচ্চ নেতাই নন, তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাইও নিহত হয়েছেন। খামেনির মরদেহ তার প্রাসাদের কম্পাউন্ড থেকেই ইরানি উদ্ধারকারীরা উদ্ধার করেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ফার্স নিউজ এজেন্সি সেসময় জানিয়েছিল, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সকালের দিকেই মারা গেছেন খামেনি। তিনি ওই সময় অফিসে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মূলত হামলার পরপরই এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনি মারা গেছেন এবং তার মরদেহ পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ সেসময় জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। তিনি তার প্রাসাদের কমাউন্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ইরানি উদ্ধারকারীরা।প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে আয়াতুল্লাহ খামেনির বাসভবন ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, এক সময়ের সুরক্ষিত সেই প্রাসাদটি এখন কেবলই এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে স্যাটেলাইটে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খামেনি ছাড়াও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাই নিহত হন।
সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসলেও দমে যায়নি তেহরান। বরং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। নজিরবিহীন এই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীও।
