Sunday, July 12, 2026

১২ বছরের শিশু ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা,ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে যা জানা গেলো…

আরও পড়ুন

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছে শিশুটির পরিবার। এরপর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজ থেকে দাবি করা হয়েছে, “১১ বছরের ধর্ষিতা সেই মেয়েটির ধর্ষক তার আপন নানা, ডিএনএ টেস্ট থেকে রিপোর্ট!”

ফেসবুকে আলোর পথ, Anwar Tv, মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ মিডিয়া সেল , সাইবার -71 We Work to Protect Bangladesh,দিগন্ত টিভি সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় পেজ থেকে এই দাবি করা হয়।

দ্য ডিসেন্টের যাচাই এ দেখা যায়, ডিএনএ টেস্ট এর মাধ্যমে শিশুটির আপন নানার ধর্ষক প্রমাণ হওয়ার দাবিটি সত্য নয়।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম দ্য ডিসেন্টকে জানান, এই প্রচারণা ভিত্তিহীন। শিশুটির এখনো ডিএনএ টেস্ট করা হয়নি। শিশুটি এখন অন্তঃসত্ত্বা। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর টেস্ট করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  হস্তক্ষেপ করলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সুখবর দিল নবীন ফ্যাশন

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মদন থানায় ভুক্তভোগীর মা হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে ধর্ষণের অভিযোগটি দায়ের করেন।মামলার এজহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান ওই মাদরাসা শিক্ষক।

এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গত ১৮ এপ্রিল ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে যান অভিযুক্ত সাগর।

শিশুটির স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন ডা. সায়মা আক্তার। তিনি বলেন, ‘শিশুটি মায়ের সঙ্গে ক্লিনিকে আসে। জানায়, তার পেট ভার ভার লাগে। কী যেন হঠাৎ করে নড়াচড়া করে। পরে পরীক্ষা করে দেখতে পাই, বাচ্চাটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শিশুটিকে যখন বারবার জিজ্ঞাসা করি, ‘মা, তোমার সঙ্গে এ কাজ কে করেছে?’ তখন তার চোখেমুখে ভয়ের ছাপ। শুধু বলে, ‘হুজুর, হুজুর এই কাজ করেছে’।

আরও পড়ুনঃ  জবিতে ক্লাসের মধ্যে অশ্লীল ভিডিও ধারণ, অত:পর…

শিশুটির মা বলেন, “রাতে মেয়ের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানোর সময় আমার নজরে আসে মেয়ের পেট কিছুটা উঁচু। তখন খটকা লাগে এবং তাকে ডাক্তারের কাছে যাই। তখন ডাক্তার বলেন, মেয়ে গর্ভবতী।”

তিনি বলেন, “বিষয়টা জানাজানি হলে মাদ্রাসা শিক্ষক সাগর টাকা দেওয়ার লোভ দেখায়। বিষয়টি সমাধান করতে বলে। আমি রাজী হই নাই। আমি বলি, গ্রামের মানুষ আছে। সবাইকে নিয়ে যা করার করব। পরে মামলা করি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। সাগরের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।”

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ‘আমি এই থানায় যোগদানের আগেই মামলাটি হয়েছে এবং মামলার দু-একদিন আগেই আসামি পালিয়েছে। আসামির পক্ষ থেকে মীমাংসার চেষ্টার বিষয়টি আমি শুনেছি। বর্তমানে এলাকায় একটি গুমট পরিস্থিতি বিরাজ করছে; কেউ তথ্য বা ফোন নাম্বার দিয়ে সহযোগিতা করতে চাইছে না। আসামির বাড়িতে তার মাকে পাওয়া গেলেও তিনি দাবি করেছেন যে তার ছেলে কোথায় আছে তা তিনি জানেন না। তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুনঃ  জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি বাড়ল ৯০ টাকা

অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে সক্ষম না হলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মামলার আসামির ৫ মিনিট ৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বক্তব্য। ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষক দাবি করেছে, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। ভিডিও বার্তায় অভিযুক্ত দাবি করে, ‘মেয়েটি একসময় আমার মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছে, তবে ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক, আমিও সেটাই চাই।’

সুত্র: দি ডেসটেন্ট

আপনার মতামত লিখুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ