Saturday, July 11, 2026

নতুন পে স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের জন্য থাকছে চমক

আরও পড়ুন

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি এই শ্রেণির কর্মীদের ওপর পড়ায় তাদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ ২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর প্রথম ধাপ কার্যকর হবে। এ ধাপে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাদের বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে, পরবর্তী অর্থবছরে আবারও মূল বেতনের ওপর সমপরিমাণ সমন্বয় যুক্ত হবে। এভাবে দুই বছরের মধ্যে মূল বেতনের পূর্ণ সমন্বয় সম্পন্ন হবে।

তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, বিশেষ প্রণোদনা, ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা একযোগে কার্যকর করা হচ্ছে না। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এসব ভাতা ও সুযোগ সুবিধা তৃতীয় বছর অর্থাৎ ২০২৮ ২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হবে। তবে এর মধ্যে আগের ভাতা ও সুবিধাগুলো বহাল থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  জবিতে ক্লাসের মধ্যে অশ্লীল ভিডিও ধারণ, অত:পর…

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একসঙ্গে সব সুবিধা কার্যকর করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। এজন্য রাজস্ব পরিস্থিতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধির কৌশল বাস্তবসম্মত। গত কয়েক বছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে, অথচ সে অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট হয়নি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে একবারে বড় আকারে বেতন ভাতা বৃদ্ধি করা সরকারের পক্ষে কঠিন।

আরও পড়ুনঃ  তেলের দাম লিটারে কমল প্রায় ১৫ টাকা

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার কথা মাথায় রেখে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা একটি কৌশলী পদক্ষেপ।

জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপারিশ অনুমোদনের পর জানা যাবে।

কমিটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার বিষয়েও সুপারিশ থাকতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  শক্তিশালী ভূমিকম্প, জানা গেল উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা

এদিকে পেনশনভোগীদের জন্যও বড় সুখবর আসছে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হতে পারে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরে পেনশনভোগীদের জন্য কতটুকু সুবিধা কার্যকর করা হবে, তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ