Friday, September 18, 2026

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে একদিনের ব্যবধানে বড় পতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তেল সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বাজারে এই দরপতন দেখা যায়। খবর রয়টার্স

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) লন্ডনভিত্তিক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ দশমিক ৪৫ ডলার কমে ৮৮ দশমিক ৫১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১০ দশমিক ৬১ ডলার কমে দাঁড়ায় ৮৪ দশমিক ১৬ ডলারে।

এর আগের দিন সোমবার (৯ মার্চ) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের বেশি উঠে প্রায় চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সৌদি আরবসহ প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর সরবরাহ কমানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিস্তারের আশঙ্কায় তখন বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকাসহ সারাদেশের জন্য বড় দুঃ*সংবাদ

পরে পরিস্থিতি বদলায়, যখন ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ফোনালাপ হয়। ক্রেমলিন সূত্র জানায়, চলমান যুদ্ধ দ্রুত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ঘিরে সংঘাত প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত শেষের দিকে এগোচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধ স্বল্পস্থায়ী হতে পারে—এমন ধারণা বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে সংঘাত শেষ হলেও তেল সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক নাও হতে পারে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা তেলকূপ পুনরায় পুরো উৎপাদনে ফিরতে কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় লাগতে পারে বলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মত।

আরও পড়ুনঃ  এবার জাতির উদ্দেশে ইরানের প্রেসিডেন্টের জরুরি বার্তা!

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জরুরি তেল মজুত ছাড়ার বিষয় বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্যও সামনে এসেছে। যদিও জি–৭ জ্বালানি মন্ত্রীরা কৌশলগত মজুত ছাড়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক তেলবাজারে গুরুতর সংকট তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ঈদের ১০ দিন পরও পৌঁছেনি প্রধানমন্ত্রীর উপহার

এদিকে আবুধাবির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির রুওয়াইস শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর আগুন লাগায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত থাকায় তারা তেলের মূল্য পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৬ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬২ ডলারের আশপাশে থাকতে পারে।

আপনার মতামত লিখুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ