মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের এমন চাঞ্চল্যকর দাবির বিষয়ে যদিও এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান। এর মধ্যেই লারিজানির অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি হাতে লেখা নোট বা চিঠির ছবি পোস্ট করা হয়েছে। যা এখন বড় ধরনের রহস্যের জন্ম দিয়েছে। আল জাজিরা
লারিজানির এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হাতে লেখা নোটটি মূলত সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে মার্কিন নৌবাহিনীর টর্পেডো হামলায় নিহত ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে লেখা। সম্প্রতি ভারতে আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়া ‘মিলন ২০২৬’ শেষে ইরানে ফেরার পথে যুদ্ধজাহাজে থাকা ১০৪ জন ক্রুর মধ্যে ৯৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ইরানে পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী।
ওই নোটে লারিজানি লিখেছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর বীর শহীদদের বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে: তাদের স্মৃতি চিরকাল ইরানি জাতির হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে। এই শাহাদাত সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামোতে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনীর ভিত্তিকে আগামী বহু বছর ধরে আরও শক্তিশালী করবে। আমি মহান আল্লাহর কাছে এই প্রিয় শহীদদের সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রার্থনা করছি।’
এর আগে, সোমবার রাতে তেহরানে এক ‘লক্ষ্যভিত্তিক হামলায়’ লারিজানিকে হত্যার দাবি করে ইসরায়েল। একই সঙ্গে বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এসব বিষয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। দাবিটি সত্য হলে চলমান যুদ্ধে এটি হবে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। লারিজানিকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল গত শুক্রবার তেহরানে আয়োজিত আল-কুদস দিবসের সমাবেশে। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন।

