৩০০ কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গবেষণা চালায় একটি ইন্টারন্যাশানাল রিসার্চ টিম। সেখান থেকে উঠে এসেছে অ্যাডাল্ট কনটেন্ট বা পর্নোগ্রাফি দেখার আগ্রহের পিছনে থাকা ৫ কারণ।
ইন্টারনেটের যুগে হাতের মুঠোয় বন্দি সব ধরনের কনটেন্ট। সিনেমা, ভ্লগ থেকে গল্পের বই, কিছুই বাকি নেই। যদিও কে কী ধরনের কনটেন্ট, তা ব্যক্তিগত পছন্দ। কিন্তু বেশির মানুষের ঝোঁক অ্যাডাল্ট কনটেন্ট কনটেন্ট বা পর্নোগ্রাফির প্রতিই। ‘অশ্লীল’ কনটেন্ট সম্প্রচারের জন্যই সম্প্রতি পাঁচটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিষ্ক্রিয় করেছে কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রক। ২০২৪ সালে মোট ১৮টি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ১৯টি ওয়েবসাইট, ১০টি অ্যাপকে নিষ্ক্রিয় করে কেন্দ্র। যা কিছু নিষিদ্ধ বা ‘অশালীন’, তার প্রতিই মানুষের আগ্রহ বেশি। কিন্তু কেন? এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?
৩০০ কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গবেষণা চালায় একটি ইন্টারন্যাশানাল রিসার্চ টিম। সেখান থেকে উঠে এসেছে অ্যাডাল্ট কনটেন্ট বা পর্নোগ্রাফি দেখার আগ্রহের পিছনে থাকা ৫ কারণ।
আগ্রহ ও অভ্যাস
অ্যাডাল্ট কনটেন্ট দেখার আগ্রহ ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। প্রথম দিকে আগ্রহ তৈরি হয়। তার পরে সেটাই অভ্যাসে পরিণত হয়। বিশেষত সেক্সুয়াল কনটেন্টের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে। অভ্যাসের বশে পর্নোগ্রাফি দেখেন বহু মানুষ। এই অভ্যাস এমন ভাবেই মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে যে পর্নোগ্রাফি দেখা থেকে নিজেকে কিছুতেই আটকাতে পারে না। বলা যেতে পারে, কারও কারও ক্ষেত্রে পর্নোগ্রাফি দেখা নেশা।
শেখার জন্য
বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের সেক্স লাইফ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। সঙ্গীকে যৌন তৃপ্তি দিতে পারছেন না বলে তাঁদের ধারণা। সে ক্ষেত্রে পর্নোগ্রাফিকে ‘লার্নিং টুলস’ হিসেবে ব্যবহার করেন তাঁরা। ভিডিয়োর মাধ্যমে শেখার চেষ্টা করেন। মূলত সম্পর্ক এবং সেক্স লাইফকে উন্নত করার জন্যই পর্নোগ্রাফি দেখেন। আর একটি সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৪৫% কিশোর-কিশোরী সেক্স সম্পর্কে জানতে পর্নোগ্রাফি দেখে। কী ভাবে যৌন মিলনে লিপ্ত হতে হয়, তা শেখার জন্য পর্নোগ্রাফি দেখেন ১৮-২৪ বছর বয়সিরা।
বন্ধুদের চাপে বা অবসর সময় কাটাতে
পিয়ার প্রেশারকে কোনও ভাবেই হাওয়ায় উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অনেক সময়ে বন্ধুদের চাপে পড়ে দলবদ্ধ ভাবে পর্নোগ্রাফি দেখেন বহু মানুষ। এ ছাড়া ফাঁকা বসেন আছেন, বিরক্ত হচ্ছেন, তখনও অনেকেই এই ধরনের কনটেন্ট দেখেন। সমীক্ষা বলছে, দুই-তৃতীয়াংশ পুরুষ এবং এক-চতুর্থাংশ মহিলার অ্যাডাল্ট কনটেন্ট দেখার পিছনে ‘বোরডম’ (Boredom)-ই কাজ করে ।
মানসিক চাপ কাটাতে
দৈনন্দিন জীবনের ওঠাপড়া থেকে কিছুক্ষণের বিরতি নিতেও অনেকে পর্নোগ্রাফির সাহায্য নেন। একাকিত্ব, মানসিক চাপ, অবসাদ কাটাতে অনেকেই পর্নোগ্রাফিকে হাতিয়ার করেন। পর্নোগ্রাফি হয়তো সম্পূর্ণরূপে মানসিক চাপ কমায় না। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের জন্য শরীরে হ্যাপি হরমোন রিলিজ়ে সাহায্য করে এবং নেতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকে দূরে রাখে।
যৌনতৃপ্তি
পর্নোগ্রাফি দেখার অন্যতম কারণ হলো যৌন আকাঙ্ক্ষা। নিজেকে জানতে, কোন লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বেশি তা বুঝতে বহু মানুষ পর্নোগ্রাফির সাহায্য নেন। তা ছাড়া যৌনতৃপ্তি একটি বড় কারণ।
