Friday, May 29, 2026

বঙ্গভবন ঘেরাও, সেই রাতে রাষ্ট্রপতিকে ফোনে যা বলেছিলেন নাহিদ

আরও পড়ুন

২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের সেই উত্তপ্ত রাত ছিল রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের জীবনের অন্যতম এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। বঙ্গভবন ঘেরাও এবং তার পদত্যাগের দাবিতে যখন চারদিকে চরম উত্তেজনা, ঠিক সেই মুহূর্তে তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের একটি ফোন কল পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই রাতের স্মৃতিচারণা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের সেই রাত ছিল তার জীবনের অন্যতম বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা।

তিনি বুঝতে পারছিলেন না কারা এর সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা গুঞ্জন আসতে থাকে।

আরও পড়ুনঃ  ফয়সালকে ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে যা বলল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ

রাষ্ট্রপতি জানান, একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে নাহিদ ইসলাম তাকে ফোন করল যে, ‘এরকম একটা খবর পাওয়া গেছে, ওরা আমাদের লোক না। আমি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। এগুলো সব আমরা ডিসপার্স করার চেষ্টা করছি।’

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় কিছু স্থানীয় ব্যক্তি এসে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশকে নিয়ে চলে যায়। তবে সবাই সরে যায়নি। একটি অংশ থেকে যায় এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ২টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

সেদিন রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ও বঙ্গভবনের ভেতরে থাকা অন্যরা জেগেই ছিলেন। বাইরে তখনও ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক চলছিল। রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দল বেঁধে ‘রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাই’ স্লোগান ওঠে।

আরও পড়ুনঃ  যে ৮ উপজেলার মানুষ পাচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড

এ ঘটনার প্রেক্ষাপট টানতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২২ অক্টোবর হঠাৎ করেই বঙ্গভবন ঘেরাও করা হয়। অমুকের দল, তমুকের দল, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই ঐক্য-নানা নামে রাতারাতি গজিয়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে একই ধরনের লোকজন রাস্তায় নামে।

তার প্রশ্ন, এত বড় কর্মসূচির অর্থের জোগান তারা কোথা থেকে পেল?

ঘেরাওয়ের পরপরই সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশন থেকে সদস্যরা এসে বঙ্গভবনের চারপাশে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। এরমধ্যেই একটি ঘটনা রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একটি মেয়ে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর উঠে লাফ দেয়। রাষ্ট্রপতির মতে, পুরো ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং ভাড়াটিয়া চরিত্রের। সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পর মেয়েটি মাটিতে পড়ে থাকে এবং ক্যামেরাম্যানকে উদ্দেশ করে ছবি তুলতে আহ্বান জানাতে থাকে।

আরও পড়ুনঃ  ইরানের পক্ষে লড়বে আরও যে দুই দেশের বাহিনী

রাষ্ট্রপতির ভাষায়, এর উদ্দেশ্য ছিল ছবি ব্যবহার করে পরিস্থিতিকে কাজে লাগানো এবং ব্ল্যাকমেইলের সুযোগ তৈরি করা। পরে নারী পুলিশ ও নারী সেনাসদস্যরা তাকে টেনেহিঁচড়ে তুলে সেনাবাহিনীর জিপে করে সরিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র : কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুনঃ

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ